Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » হেলথ ও ফিটনেস » কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো কি কি? জেনে নিন কিডনি রোগের প্রধান ১৭ টি লক্ষণ!

কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো কি কি? জেনে নিন কিডনি রোগের প্রধান ১৭ টি লক্ষণ!

শরীরের ভিতরে বেশ কয়েকটি ভাইটাল অরগ্যান আছে তারমধ্যে কিডনি অন্যতম। কিডনির অনেকগুলো কাজের মধ্যে অন্যতম কাজ হচ্ছে শরীরের ভিতর থেকে বজ্র অপসারন করা, যার কারণে রক্ত পরিষ্কার হয়ে থাকে।

কিডনি রোগ একটি মারাত্মক ধরণের মরণ ব্যাধি এর কারণ হচ্ছে এই রোগের তেমন কোন লক্ষণ দেখা যায় না। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কিডনি নষ্ট হয়ে গেলে কিডনি রোগের লক্ষণগুলো দেখতে পাওয়া যায়।

ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে,৭০ থেকে ৮০ ভাগ কিডনি যখন নষ্ট হয়ে যায় তখন তা রিকভার করা বা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। 

কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে যদিও ক্রনিক কিডনি রোগের লক্ষণ দেখা যায় না তারপরেও কিছু কিছু লক্ষণ আছে যা আমাদের সতর্ক করে দিতে পারে।

আসুন জেনে নেই কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো কি কি?

ক্রনিক কিডনি রোগের লক্ষণগুলো কি কি? জেনে নিন কিডনি রোগের প্রধান ১৫ টি লক্ষণ

ক্রনিক কিডনি রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ

শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণ আলাদাভাবে নেই, নিচের লক্ষণ গুলো সব বয়সের মানুষের শরীরে দেখা দিলে একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।

আর কথা না বাড়িয়ে জেনে নেয়া যাক, কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো কি কি?

১. প্রসাবে সমস্যা হওয়া

কিডনি রোগের লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে পরিমিত প্রসাব না হওয়া অর্থাৎ যে পরিমাণ প্রসাব হওয়ার কথা তার থেকে তুলনামূলক কম প্রসাব হওয়া।

রাতে ঘন ঘন প্রসাবের চাপ আসা এবং পরিমিত প্রসাব হয়না এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরী।

কিডনির ফিল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিমাণে কম প্রসাব হয় এবং রাতে ঘন ঘন প্রসাবের চাপ দেয়। তাই আপনার বা আপনার পরিবারের কোন সদস্যের কিডনি রোগের এই লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া জরুরী।

২. প্রসাবের সাথে রক্ত যাওয়া

কিডনির অন্যতম কাজ হচ্ছে রক্ত থেকে বজ্র পদার্থ অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় পদার্থ ছাকুনির মাধ্যমে পরিষ্কার করা। কিডনিতে সমস্যা থাকলে এই বজ্রের সাথে রক্তও বের হতে পারে।

কিডনিতে পাথর থাকলে এবং কিডনি ইনফেকশন থাকলে প্রসাবের সাথে রক্ত বা রক্তের কোষ বের হতে পারে। এছাড়াও প্রসাবে অতিরিক্ত ফোম তৈরি হলে বুঝতে হবে শরীরের অ্যালবামিন নামক প্রোটিন প্রসাবের মাধ্যমে বের হয়ে যাচ্ছে।

কিডনি ইনফেকশনের লক্ষণ গুলোর মধ্যে এটি একটি প্রধান লক্ষণ। তাই কিডনি রোগের এই লক্ষণ দেখা দিলেই একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া অনেক জরুরী।

আরও পড়ুনঃ

৩. প্রসাবের সময় ব্যথার অনুভব হওয়া

কিডনি রোগের লক্ষণ গুলির মধ্যে অন্যতম লক্ষণ হচ্ছে প্রসাবের সময় ব্যথার অনুভব হওয়া। এই ব্যথা সামান্য থেকে তীব্র হতে পারে।

এই ব্যথা অনেক সময় কিডনি এবং পিঠে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক দিকে একে বলা হয়ে থাকে মূত্র নালী বা মূত্র থলির ইনফেকশন, এখান থেকে মূলত শুরু হয়ে কিডনিতে ছড়িয়ে পড়ে।

তাই কিডনি রোগের এই লক্ষণ দেখা দেয়া মাত্রই কোন প্রকার বিলম্ব না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরী।

৪. পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া

আচমকা পায়ের গোড়ালি ফুলে যাওয়া কিডনি রোগের লক্ষণ গুলির মধ্যে অন্যতম। কোন প্রকার আঘাত ছাড়াই এমনটা হলে বুঝতে হবে হয়তো কিডনিতে সমস্যা হয়েছে।

কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণও কমে যায় যার ফলে পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়। অনেকেই এটাকে পাত্তা দেয় না, সাধারণ ব্যাপার মনে করে থাকে, এটি সাধারণ মনে হলেও এটি কিডনি রোগের প্রধান প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম।

কারও কিডনি রোগের এই লক্ষণ দেখা দিলে অতি দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরী। হার্ট বা লিভারের সমস্যা হলেও এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

৫. পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া

কিডনি রোগের প্রধান লক্ষণ গুলির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া। কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গেলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণও কমে যায় যার ফলে পায়ের পাতা ফুলে যায় অর্থাৎ পানি জমে যায়।

কিডনি রোগের এই লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরী। হার্ট বা লিভারের সমস্যা হলেও এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

৬. খাবার গ্রহণে অনীহা

বিভিন্ন কারণে খাবার গ্রহণে অনীহা বা অরুচি দেখা দিতে পারে তবে কিডনির সমস্যার কারণেও এরকম লক্ষণ দেখা দেয়।

খাবার খেলেই বমি বমি ভাব এমন সমস্যা দেখা দেয়, সাধারণত শরীরে যদি বেশি মাত্রায় টক্সিন জমে যায়। আর শরীরে বেশি মাত্রায় টক্সিন জমার প্রধান কারণ হচ্ছে কিডনির কর্ম ক্ষমতা কমে যাওয়া।

খাবারে অরুচি এবং অতি মাত্রায় বমি বমি ভাব যদি দেখা দেয় তবে এটিকেও কিডনি রোগের প্রধান লক্ষণ হিসেবে ধরে নেয়া যায়। তাই এই লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আরও পড়ুনঃ

৭. চোখের চারিদিকে ফোলা ভাব দেখা দেওয়া

বেশ কিছু কিডনি রোগের লক্ষণ গুলোর মধ্যে চোখের চারপাশে ফুলে যাওয়া হল অন্যতম প্রধান লক্ষণ।প্রসাবের সাথে প্রোটিন বের হয়ে গেলে সাধারণত এমন লক্ষণ দেখা দিয়ে থাকে।

প্রসাবের সাথে প্রোটিন বের হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে কিডনির ছাকুনি ভালোভাবে কাজ না করা অর্থাৎ কর্ম ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।

মনে রাখা জরুরী হামেসাই চোখের চারপাশ ফুলে যায় না, এই ফুলে যাওয়াটাকে খুব সাধারণ ভেবে নেয়া নিহাতই বোকামি ছাড়া কিছুই নয়।

প্রসাবের সাথে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন বের হয়ে গেলেই চোখের চারপাশ ফুলে যায়। আর এমন লক্ষণ দেখা দিলেই অতি সত্তর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী।

৮. ক্ষুধা হ্রাস পাওয়া

অন্যান্য রোগে যেমন ক্ষুধা কমে যায় ঠিক তেমনি কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষণ হিসেবে পেটের ক্ষুধা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। শরীরের মধ্যে অতি মাত্রায় টক্সিন জমা হলে ক্ষুধা কমে যায়।

কিডনির কাজ করার ক্ষমতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত টক্সিন জমা হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি অতিমাত্রায় বমি বমি ভাব থাকতে পারে। অনেক সময় শরীর গুলিয়ে উঠতে পারে।

এটি কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষণ হিসেবে গন্য করা হয়ে থাকে। তাই এমন লক্ষণ যদি দেখা দেয় তবে বিলম্ব না করে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরী।

৯. ক্লান্তিবোধ হওয়া

অকারণে অনেকেই সবসময় ক্লান্তি বোধ করে থাকে। শারীরিক দুর্বলতার কারণে অনেকের সবসময় ক্লান্তি বোধ হতে পারে। কিন্তু আপনি জানেন কি! অকারণে সবসময় ক্লান্তি বোধ হওয়া কিডনি রোগের লক্ষণ?

কোন প্রকার পরিশ্রম ছাড়াই যদি আপনার ক্লান্তি বোধ হয় তবে হতে পারে আপনার কিডনির সমস্যা আছে। কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গেলে শরীরের বজ্র কিডনি দিয়ে বের হতে পারে না ফলে শরীরে বজ্র পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়।

শরীরে টক্সিন বা বজ্র পদার্থের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অল্প পরিশ্রমে অথবা বিনা পরিশ্রমে ক্লান্তিবোধের সৃষ্টি হয়।

এমনটা হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, erythropoietin নামক একটি হরমোন লোহিত রক্ত কণিকাকে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে থাকে।

কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গেলে শরীরে erythropoietin হরমোনের পরিমাণ কমে যায় এর ফলে শরীরে রক্তের পরিমাণও কমে যায়। শরীরে রক্তের পরিমাণ কমে গেলে বিনা পরিশ্রমে অথবা অল্প পরিশ্রমে ক্লান্তি বোধ হয়ে থাকে।

তাই সচেতনতার জন্য কিডনি রোগের এই লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরী।

১০. কাজে মনোযোগ কমে যাওয়া

ইচ্ছে থাকলেও অনেক সময় কোন কাজে মন বসে না কিংবা কাজে মনোযোগ আসে না। এমনটা হয়ে থাকে সাধারণত erythropoietin হরমোনের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে।

Erythropoietin হরমোন কমে গেলে শরীরে শক্তি কম মনে হবে এবং কোন কাজে মনোযোগ বা একাগ্রতা আসে না। দীর্ঘদিন ধরে এমনটা হলে ধরে নিতে হবে কিডনি ইনফেকশনের লক্ষণ।

মনে রাখা দরকার কাজে একাগ্রতা বা মনোযোগ কমে যাওয়া কিডনি রোগের লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক।

জেনে নিনঃ 

১১. অপর্যাপ্ত ঘুম বা ঘুমের সমস্যা হওয়া

অপর্যাপ্ত ঘুম কিংবা ঘুমের সমস্যা কিডনি রোগের লক্ষণ গুলোর মধ্যে একটি প্রধান লক্ষণ। কিডনি যখন ঠিকমত ছাকুনি দিয়ে বজ্র অপসারন করতে না পারে তখন রক্তের মধ্যে বজ্রের পরিমাণ বেশি হয়ে যায়।

ফলে দেখা দিয়ে থাকে ঘুমের সমস্যা। এছাড়াও অতিরিক্ত মোটা শরীরে ক্রনিক কিডনি রোগের লক্ষণ বেশি দেখা দিয়ে থাকে। পাতলা মানুষের তুলনায় মোটা মানুষের মধ্যে স্লিপ এপ্নিয়া হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

স্লিপ এপ্নিয়া এক ধরণের ঘুমের সমস্যা। মানুষের মধ্যে সাধারণত দুই ধরণের স্লিপ এপ্নিয়া দেখা দিয়ে থাকে। একটি হচ্ছে অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ এপ্নিয়া এবং অন্যটি হচ্ছে সেন্ট্রাল স্লিপ এপ্নিয়া।

অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ এপ্নিয়া একটি সাধারণ সমস্যা খুব বেশি জটিল নয়। এ ধরণের স্লিপ এপ্নিয়ায় আক্রান্ত মানুষের ঘুমের মধ্যে শ্বাস প্রশ্বাস অল্প সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় ফলে রোগী নাক ডাকে।

আর সেন্ট্রাল স্লিপ এপ্নিয়া রোগ একটু জটিল, এই রোগে আক্রান্ত মানুষের ঘুমের মধ্যে শ্বাস প্রশ্বাস আটকে থাকে, শ্বাস প্রশ্বাস আটকে থাকার কারণ হচ্ছে শ্বাস প্রশ্বাস সঞ্চালন করা মাংস পেশীতে মস্তিস্ক দেয়া সিগন্যাল পৌঁছায় না।

তাই এ ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হলে কাল বিলম্ব না করে একজন ভালো বিশেষজ্ঞ কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা খুবই জরুরী।

১২. ঘন ঘন প্রসাব হওয়া

কিডনি রোগের প্রধান লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি লক্ষণ হচ্ছে ঘন ঘন প্রসাব হওয়া। রাতে বারবার প্রসাবের চাপ বা বেগ আসাও কিডনি রোগের লক্ষণ।

এছাড়াও প্রসাবের বেগ অনেক বেশি কিন্তু সে তুলনায় প্রসাবের পরিমাণ অনেক কম হয় তাহলে এটিও কিডনি রোগের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেয়া হয়।

ঘনঘন প্রসাব হওয়া শুধু মাত্র কিডনি রোগের লক্ষণ বিষয়টা এমন নয়, ডায়াবেটিস রোগ কিংবা মূত্রনালির ইনফেকশন জনিত কারনেও ঘন ঘন প্রসাব হয়ে থাকে। 

যে কারণেই ঘন ঘন প্রসাব হোক না কেন তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নেয়া প্রত্যেক সচেতন মানুষের উচিৎ এবং একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা জরুরী।

আরও পড়ুনঃ

১৩. মাংসপেশীতে ব্যথা এবং টান ধরা

কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস পেলে শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট এর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। শরীরের মধ্যে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য কমে গেলে পিঠের নিচের দিকে ব্যথা হতে পারে পাশাপাশি পায়ের মাংস পেশীতেও ব্যথা হয়ে থাকে।

শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণে এ ধরণের ব্যথার সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ ধরণের ব্যথা কিডনি ইনফেকশনের লক্ষণ বা কিডনি রোগের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেয়া হয়।

কিডনি ইনফেকশনের এই লক্ষণ দেখা দিলে আর বিলম্ব না করে একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা অতীব জরুরী।

১৪. শরীরে চুলকানি দেখা দেওয়া

আমাদের সমাজে চুলকানি রোগ কে কেউ অতটা গুরুত্ব দেয় না, অনেকেই মনে করে এলার্জি জনিত কারণে চুলকানি হয়ে থাকে। কিন্তু এমন ধারণা একেবারেই ভুল।

ত্বক শুষ্ক হওয়া কিংবা অতি মাত্রায় চুলকানি কিডনি রোগের লক্ষণ। শরীরের মধ্যে বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে শরীরে চুলকানি দেখা দিতে পারে।

এমনটা হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। আমরা পূর্বেই জেনেছি কিডনির প্রাধান কাজ হচ্ছে শরীর থেকে বজ্র এবং অতিরিক্ত পানি প্রসাবের মাধ্যমে বের করে দেয়া।

আর কিডনি যখন এই কাজটা ঠিকমত না করতে পারে তখন দেখা দিতে পারে চুলকানি বা স্কিন র‍্যাস। কিডনির আরও কিছু কাজ আছে যেমন, লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদন করা, হাড় মজবুত রাখা, শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করা।

১৫. গরমেও শীত অনুভূত হওয়া

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শীত অনুভূত হওয়া কিডনি রোগের উপসর্গ বা লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম। শীত অনুভূত হওয়ার পাশাপাশি প্রচণ্ড জ্বরও আসতে পারে।

প্রচণ্ড গরমে শুধু আপনারই শীত অনুভূত হচ্ছে এবং বেশ কিছুদিন এমনটা চলতে থাকলে বলা যেতে পারে আপনার কিডনির সমস্যা হয়েছে, তাই দ্রুতই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা অনেক জরুরী।

১৬. খাবারে ভিন্ন স্বাদ লাগা

কিডনি রোগের কারণে মুখের স্বাদের পরিবর্তন হয়ে থাকে। লোহা বা ধাতব পদার্থের মত স্বাদ বিদ্যমান থাকে এবং যে কোন ধরণের খাবার মুখে নিলেই তা লোহার মত লাগে।

ধাতব বা লোহার মত স্বাদ লাগা কিডনি রোগের প্রধান লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

১৭. শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন হওয়া

সামান্য হাঁটাহাঁটি বা সল্প মাত্রায় পরিশ্রম করলেই শ্বাস প্রশ্বাস ছোট হয়ে আসে অর্থাৎ শ্বাস প্রশ্বাস ঘন হয়ে যায়, ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে।

কারণ কিডনি সমস্যার কারণে ফুসফুসে পানি জমে থাকে, ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ার কারণে শ্বাস প্রশ্বাস ছোট হয়ে আসে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

উপরোক্ত কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো শুধুমাত্র কিডনির সমস্যার কারনেই যে দেখা দেয়, এমনটা চিন্তা করার কোন কারণ নেই। কারণ অনেক সময় ছোট ছোট কারনেও এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

উপরোক্ত লক্ষণ গুলো কিডনি ইনফেকশনের লক্ষণ হিসেবেও ধরা যায়, তবে মনে রাখা উচিৎ, কিডনি ইনফেকশন ওষুধ গ্রহনের মাধ্যমেই নিরাময় করা সম্ভব।

তবে হ্যাঁ, কিডনি ইনফেকশন দীর্ঘদিন ধরে শরীরে পুষে রাখলে ধীরে ধীরে তা কিডনি নষ্টের দিকে নিয়ে যাবে। তাই প্রসাবের যে কোন সমস্যায় অবহেলা না করে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া খুবই জরুরী।

শিশুদের কিডনি রোগের লক্ষণ গুলোও একই, উপরের কিডনি রোগের লক্ষণ গুলো দেখা দিলে শরীর চেকআপ বা একজন ভালো কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

আরও পড়ুনঃ

 

*লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো* 

Check Also

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা, আনারস খাওয়ার সঠিক সময়, Health Benefits of Pineapple

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা

রসে ভরা ১০টি সুস্বাদু ফলের নাম যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তবে আনারসের নাম থাকে সবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!