Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা

রসে ভরা ১০টি সুস্বাদু ফলের নাম যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তবে আনারসের নাম থাকে সবার প্রথমে। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন অন্তত ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া উচিৎ। ফলের এই চাহিদা অনেকটাই পূরণ করতে পারে আনারস।

শুধু ভিটামিনের চমৎকার উৎস হিসেবেই নয় বরং আনারসের রয়েছে অনেক ঔষধি গুণাগুণ। খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা রয়েছে অনেক।

আনারসের উপকারিতা এবং আনারসের গুণাগুণ ছাড়াও আনারস খাওয়ার নিয়ম কিংবা আনারস খাওয়ার সঠিক সময় সাথে আনারস খাওয়ার অপকারিতা অথবা আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে সহজ ভাষায়।

চলুন সবার প্রথমে জেনে নেয়া যাক, আনারসের পুষ্টিগুণ কি?

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা, আনারস খাওয়ার সঠিক সময়, Health Benefits of Pineapple

সুচীপত্র

আনারসের পুষ্টিগুণ

আনারসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকরই হয়তো ভালো জানা নেই। আনারসের অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে যা একজন সুস্থ মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চলুন জেনে নেয়া যাক আনারসের পুষ্টিগুণ।

১০০ গ্রাম কাঁটা আনারসে নিন্মলিখিত পুষ্টি উপাদানগুলো পাওয়া যায়।

    • ১০০ গ্রাম কাঁটা আনারসে ৫০ কিলো ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়।
    • কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায় ১৩ গ্রাম।
    • প্রোটিন রয়েছে ০.৫ গ্রাম।
    • ফাইবার বা আঁশ থাকে ১.৪ গ্রাম।
    • চর্বি বা ফ্যাট রয়েছে ০.১ গ্রাম।
    • ভিটামিন সি আছে ৪৭ মিলিগ্রাম।
    • চিনি বা সুগার রয়েছে ৯.৯ গ্রাম।
    • আয়রন রয়েছে ১.২ মিলিগ্রাম।
    • ফসফরাস পাওয়া যায় প্রায় ০.০২ গ্রাম।
    • ক্যালসিয়াম রয়েছে ১৮ মিলিগ্রাম।
    • ভিটামিন বি-১ পাওয়া যায় ০.০৪ মিলিগ্রাম।
    • ১০০ গ্রাম কাঁটা আনারসে প্রায় ৮৬% পানি থাকে।

উপরের লিস্টটিতে একবার চোখ বোলালেই আনারসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা পাওয়া যায়। আনারসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা তো পেয়েই গেলাম, চলুন এবার জেনে নেয়া যাক আনারস খেলে কি হয়? বা আনারসের উপকারিতা।

আনারসের উপকারিতা

আনারসের উপকারিতা নিয়ে বলা শুরু করলে অনেককিছুই বলা যায়। আনারস খাওয়ার উপকারিতা গুলোর মধ্যে প্রধান প্রধান পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হল।

১. দ্রুত শক্তি যোগায়

যেকোনো ধরণের শারীরিক পরিশ্রম করার পর শরীর অনেকটাই নেতিয়ে পড়ে অর্থাৎ শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় শরীরে দ্রুত শক্তি পেতে আনারস খাওয়া যেতে পারে।

কারণ আনারসে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে। আনারসে পাওয়া কার্বোহাইড্রেট এর অধিকাংশই সুক্রোজ, ফ্রুক্টোজ এবং গ্লুকোজ, এগুলোকে সরল শর্করা বলা হয়ে থাকে।

সরল শর্করাগুলো শরীর দ্বারা খুব দ্রুত শোষিত হওয়ার কারণে শরীরে খুব দ্রুত শক্তি এনে দেয়। আনারস খাওয়ার উপকারিতা গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

২. ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়

আনারসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ পাওয়া যায়। আনারসের ফাইবার বা আঁশগুলো দ্রবণীয় নয় অর্থাৎ পুরোপুরি হজম হয় না। এই পুরোপুরি হজম না হওয়া আঁশগুলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারে।

ফলে নিয়মিত আনারস খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তবে যাদের ডায়াবেটিস হয়ে গেছে তাদের আনারস খাওয়া না খাওয়ার ব্যাপারে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিৎ।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে

আনারস খাওয়ার উপকারিতা গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সাধারণ ঠাণ্ডাজর বা সাধারণ সর্দি কাশিতে আনারস খেলে সর্দি কাশি কিংবা ঠাণ্ডাজর নিরাময় হয়।

আনারসে রয়েছে ব্রোলামিন এবং ভিটামিন সি যা সাধারণ ঠাণ্ডাজর এবং সর্দি কাশি প্রতিরোধ করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

সাধারণ ঠাণ্ডাজর এবং সর্দি কাশি থেকে নিরাময় পেতে ওষুধের পরিবর্তে খাওয়া যেতে পারে আনারস।

৪. কৃমি দমন করতে সাহায্য করে

আনারস খাওয়ার উপকারিতা গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আনারস খেলে কৃমি মরে যায় এবং পেট থেকে বের হয়ে যায়। যদি বলা হয় কৃমি দমন করার ন্যাচারাল উপায় কি? তাহলে সবার প্রথমে নাম আসবে আনারসের।

আনারস খেলে কৃমি ধংশ বা দমন হয়। তাই কৃমির ওষুধ না খেয়ে কিছুদিন পর আনারস খাওয়া যেতে পারে চোখ বন্ধ করে।

৫. বমি দূর করে

বাস কিংবা ট্রেন মাধ্যম যাই হোক, এসবে জার্নি করলেই বমি চলে আসে, এমন সমস্যা অনেকেরই আছে। এই সমস্যা দূর করতে জার্নি শুরু করার পূর্বে খেয়ে নিতে পারেন আনারস।

এতে বমি কিংবা বমি বমি ভাব দূর হয়ে যাবে এবং জার্নিটাও হয়ে উঠবে আনন্দপূর্ণ।

৬. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

ক্যান্সারের নাম শুনলে ভয়ে আঁতকে উঠে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে ফেলেছে এই ক্যান্সার।

সরাসরি ক্যান্সারের কোন প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার না হলেও এই দুরারোগ্য ব্যাধিকে প্রতিরোধ করার উপায় বিজ্ঞানীরা বের করতে পেরেছেন।

আনারসের উপকারিতা বর্ণনা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, আনারসে প্রোটিওলাইটিক নামক একটি এনজাইম রয়েছে যা ব্রোলামিন নামে পরিচিত।

পৃথিবীতে যত খাদ্য উপাদন রয়েছে কোন খাদ্য উপাদানে এই এনজাইমটি পাওয়া যায় না কিন্তু শুধুমাত্র আনারসে পাওয়া যায়। এই এনজাইমটি প্রোটিন ভাঙতে সহায়তা করে এবং ক্যান্সার সেল ধংশ করতে সহায়তা করে।

তাই নিয়মিত আনারস খেলে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৭. উচ্চরক্তচাপ কমায়

হাই ব্লাড প্রেসার যাকে বাংলায় বলা হয় উচ্চরক্তচাপ এই রোগটির কম বেশি সবাই পরিচিত। বাংলাদেশের কমন রোগগুলোর একটি এই উচ্চরক্তচাপ।

আনারস খাওয়ার উপকারিতা গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন, আনারস নিয়মিত খেলে উচ্চরক্তচাপ কমে যায় কারণ আনারসে এক ধরণের অদ্রবণীয় ফাইবার বা আঁশ রয়েছে।

আনারসে রয়েছে এন্টি ক্লটিং এজেন্ট যা রক্ত জমাট বাঁধতে বাঁধা প্রদান করে। তাই যাদের উচ্চরক্তচাপ রয়েছে তারা অনায়াসে খেতে পারেন আনারস, তবে তার পূর্বে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করলে মন্দ হয় না।

৮. রক্ত তৈরি এবং নতুন টিস্যু তৈরি করে

রক্তের তিনটি কনিকার মধ্যে রেড ব্লাড সেল অর্থাৎ লোহিত রক্ত কণিকা একটি। আনারসে প্রচুর পরিমাণে কপার থাকে যা লোহিত রক্ত কণিকা তৈরিতে বড় ধরণের সহায়তা করতে পারে।

এছাড়াও আনারস খাওয়ার উপকারিতা বর্ণনা করতে গিয়ে গবেষকরা বলেছেন, আনারসে ফোলেট রয়েছে যা নতুন টিস্যু তৈরিতে সহায়তা করে।

৯. হাড় শক্ত করে

আনারসের উপকারিতা কি এ নিয়ে অনেক গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন, আনারসে প্রচুর পরিমাণে ম্যাংগানিজ, ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস রয়েছে যা হাড়ের জন্য খুবই উপকারী এবং হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে।

পাশাপাশি হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউরিক এসিড বেশি থাকার সমস্যায় যারা ভুগছেন, নিয়ম করে আনারস খেলে অনেকখানি উপকার পাওয়া যাবে।

১০. হাঁপানি দূর করে

আমাদের দেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে ঘরে ঘরে হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগী। প্রতিদিন এর সংখ্যা বেড়েই চলছে, এর প্রধান কারণ নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

নিয়মিত আনারস খেলে হাঁপানি বা অ্যাজমা থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পাওয়া যায়।

১১. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

আনারস খাওয়ার উপকারিতা এর মধ্যে সর্বশেষ যে উপকারিতার কথা বলবো তা হল- হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যটায় ভুগছেন বা হজমে সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত আনারস খেতে পারেন।

উপরের লেখাগুলো থেকে আনারস খাওয়ার উপকারিতা বিস্তারিত জানা গেলেও আনারস খাওয়ার নিয়ম বা আনারস খাওয়ার সঠিক সময় কিংবা খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা কি? এ কয়েকটি ব্যাপারে জানা বাকি থাকতে পারে।

আশা করি নিচের লেখাটুকু পড়লেই খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা বা আনারস খাওয়ার সঠিক সময় কিংবা আনারস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পেয়ে যাবেন।

চলুন জেনে নেয়া যাক, আনারস খাওয়ার নিয়ম বা আনারস খাওয়ার সঠিক সময়।

আনারস খাওয়ার নিয়ম

আমরা হয়তো ছোট বেলা থেকেই শুনে এসেছি খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা অনেক রয়েছে। আপনি ঠিকই শুনেছেন। খালি পেটে আনারস খেলে উপরের সবগুলো উপকারিতাই পাওয়া যায়।

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে বলতে গেলে প্রথম যে কথা আসে তা হল কৃমি দমন। খালি পেটে আনারস খেলে পেটের কৃমি মরে যায় এবং আনারসে ফাইবার থাকার কারণে মৃত কৃমি মলের সাথে বের হয়ে যায়।

যদি কারো এসিডিটি সমস্যা থেকে থাকে তবে খালি পেটে আনারস না খাওয়াই ভালো।

এখন কথা হচ্ছে আনারস খাওয়ার নিয়ম কি? আনারস কি চিবিয়ে খাওয়া ভালো নাকি জুস বানিয়ে খাওয়া ভালো? এমন প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাওয়াটাই স্বাভাবিক।

আনারস খাওয়ার নিয়ম কি? দাঁত দিয়ে চিবিয়ে খাওয়াই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর। তাহলে কি আনারসের জুসের উপকারিতা নেই?

অবশ্যই আনারসের জুসের উপকারিতা আছে তবে, আনারসের মধ্যে বিদ্যমান ফাইবার বা আঁশ আনারসের জুসের মধ্যে থাকে না, কারণ জুস করতে অনেকেই ছাকুনি দিয়ে থাকে, এতে করে ফাইবার আলাদা হয়ে যায়।

এক্ষেত্রে যদি চিবিয়ে খাওয়া যায় তবে আনারসের সকল উপাদানের পুষ্টিগুণ পাওয়া সম্ভব। এছাড়াও আনারস চিবিয়ে খেলে দাঁতেরও অনেক উপকার হয়।

আনারসের উপকারিতা বা আনারস খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত জানা হল। এখন আনারসের অপকারিতা বা আনারস খাওয়ার অপকারিতা নিয়ে কিছুটা হলেও পড়াশুনা করা উচিৎ।

চলুন জেনে নেয়া যাক, আনারস খাওয়ার অপকারিতা

আনারসের অপকারিতা / আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আনারসের অনেক উপকারিতা থাকার পরেও আনারসের অপকারিতা বা আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এই পর্যায়ে আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আসুন জেনে নেই আনারসের অপকারিতা বা আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

আনারসের অপকারিতা, আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, side effects of pineapple

১. অ্যালার্জি

অনেকেরই আনারসে অ্যালার্জি থাকতে পারে। যাদের আনারসে অ্যালার্জি আছে তারা অবশ্যই আনারস খাওয়া থেকে দূরে থাকা উচিৎ।

আনারসে অ্যালার্জি থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ আনারস খেতে চায় তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিৎ।

২. রক্তে গ্লুকজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়

আনারসে প্রচুর পরিমাণে সুগার বা চিনি রয়েছে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক ক্ষতিকর। একজন সুস্থ মানুষ যদি অতিরিক্ত মাত্রায় আনারস খায় তবে তার রক্তে গ্লুকজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এতে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। এজন্য বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহে অন্তত ২ দিন আনারস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

৩. এসিডিটি বাড়িয়ে দেয়

যাদের এসিডিটি সমস্যা আছে তারা বেশি পরিমাণে আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ আনারস এসিডিক।

এসিডিটি সমস্যায় ভুগা ব্যক্তি খালি পেটে আনারস খেলে পেটে ব্যাথা হতে পারে সাথে পেট ফেঁপে যেতে পারে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।

৪. কাঁচা আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

অনেকেই কাঁচা আনারস পছন্দ করে থাকে, কেউ কেউ কাঁচা আনারসের জুস বানিয়েও পান করে কিন্তু তারা হয়তো জানে না কাঁচা আনারসের জুস শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

একটু বেশি পরিমাণে কাঁচা আনারস খেলে বমি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫. মুখ এবং গলার জন্য ক্ষতিকর

কাঁচা আনারসে প্রচুর পরিমাণে এসিড থাকায় তা খাওয়া মুখ এবং গলার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই এসিডিটির কারণে গলায় শ্লেষ্মা তৈরি হয় এবং কাঁচা আনারস খাওয়ার পর পেটে ব্যাথারও সৃষ্টি হতে পারে।

৬. এন্টি ক্লটিং এজেন্ট

প্লাটিলেট রক্ত জমাট বাঁধাতে সহায়তা করে। আনারসের মধ্যে এন্টি প্লাটিলেট বৈশিষ্ট্য থাকায় রক্ত জমাট বাঁধতে বাঁধা প্রদান করে, যা অনেক সময় হুমকি হতে পারে। তাই কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ।

৭. ব্রোলামিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ব্রোলামিনের একটি প্রধান কাজ হচ্ছে, এটি প্রোটিন ভেঙ্গে ফেলতে পারে। শরীরে প্রোটিনের পরিমাণ কমে গেলে অ্যালার্জি এবং ডার্মাটাইটিস এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে।

৮. দাঁতের ক্ষতি

আনারস যেমন দাঁতের জন্য একদিকে ভালো আবার কিছু খারাপ দিকও আছে। দাঁতের বিভিন্ন রোগ যেমন কেভিটিসজিংজাইভেটিস

এ দুটি রোগ থাকলে আনারস খাওয়া তাদের জন্য নিরাপদ নয়। এমতাবস্থায় আনারস না খাওয়াই ভালো।

৯. ড্রাগ ইন্টার‍্যাকশন

আনারসে প্রচুর পরিমাণে ব্রোলামিন থাকায় তা বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিকনভালসেন্ট ওষুধের সাথে ইন্টার‍্যাকশন করে।

এ কারণে ডাক্তাররা এই দুপ্রকার ওষুধের সাথে আনারস খেতে নিষেধ করে থাকেন।

১০. বাতের ব্যাথা বৃদ্ধি করে

বেশি পরিমাণে আনারস খেলে অনেক সময় বাতের ব্যাথা বেড়ে যেতে পারে। তাই যাদের বাতের ব্যাথা রয়েছে তাদের আনারস খাওয়ার পূর্বে ভেবে নেয়া উচিৎ।

আনারস খাওয়ার অপকারিতা বা আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তো বিস্তারিত জানা হয়ে গেল। এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল,

গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়ার উপকারিতা কি এবং গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়ার অপকারিতা কি?

গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়ার অপকারিতা

বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা আনারসের উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও গর্ভাবস্থায় তা খেতে নিষেধ করে থাকেন। কারণ, আনারসে প্রচুর পরিমাণে ব্রোলামিন রয়েছে যা গর্ভাবস্থায় কোন নারী খেলে গর্ভপাতের সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা, do not eat pineapple during pregnancy

এর ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, আনারসে ব্রোলামিন থাকার কারণে জরায়ু নমনীয় হয়ে যায় এবং ঋতুস্রাবের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই গর্ভপাত এড়াতে প্রথম তিন মাস আনারস খেতে নিষেধ করে থাকেন চিকিৎসকগণ।

এরপরেও যদি কেউ আনারস খেতে চায় তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

আনারসের উপকারিতা এবং আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পরেও আপনার মাথায় হয়তো আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যে প্রশ্নটি গ্রামে-গঞ্জে এখনো প্রচলিত আছে।

প্রশ্নটি হচ্ছে, আনারস দুধ খেলে কি হয়? আসুন তাহলে জেনে নেই, আনারস দুধ খেলে কি হয়?

আনারস দুধ খেলে কি হয়?

গ্রামে গঞ্জে প্রচলিত একটি প্রশ্ন আনারস দুধ খেলে কি হয়? বা আনারস দুধ একসাথে খেলে কি হয়? আসুন জেনে নেই, আনারস দুধ একসাথে খেলে কি হয়?

আনারস দুধ খেলে কি হয়? do not eat pineapple with milk, why?

১. আনারস দুধে বিষক্রিয়া

আনারস এবং দুধ একসাথে খেলে বিষক্রিয়ায় মানুষ মারা যায় এই ধারণা একেবারেই ভুল। এটাকে খাদ্য কুসংস্কার বা ফুট ট্যাবু বলা হয়ে থাকে। মনে রাখবেন, দুধ আনারস একসাথে খেলে কেউ মারা যায় না।

২. বদহজম, পেট খারাপ, এবং পেট ফাঁপা

আনারস একটি টক জাতীয় ফল বা এসিডিক এবং দুধ হচ্ছে ক্ষার জাতীয়। এছাড়াও দুধের মধ্যে টক দিলে দুধ কিছুক্ষণ পর ফেটে যায় অর্থাৎ ছানা হয়ে যায়।

এই কারণে দুধ এবং আনারস একসাথে খেলে পেট ফাঁপা, বদহজম বা পেট খারাপ হতে পারে, তবে কোন ধরণের বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা নেই।

৩. খাদ্যের সমন্বয়

অনেক ধরণের ফল আছে যেগুলোর সাথে দুধ খেলে খাদ্যের সমন্বয় বজায় থাকে কিন্তু আনারস এবং দুধ খেলে খাদ্যের সমন্বয় বজায় থাকে না ফলে বদ হজম, অ্যাসিডিটি, পাতলা পায়খানা, পেট ফাঁপা ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে, তবে কোন ধরণের বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা নেই। মানুষ মারা যাবে না।

আনারসের উপকারিতা, অপকারিতা, আনারস খাওয়ার নিয়ম, আনারস খাওয়ার সঠিক সময়, আনারসের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি থেকে আশা করা যায় নতুন নতুন অনেক কিছু জানতে পেরেছেন।

আজ এ পর্যন্ত, আগামীতে দেখা হবে নতুন কোন বিষয় নিয়ে। ততদিনে ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এটাই কামনা।

 

আরও পড়ুন,

 

*লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো*

Check Also

Food to avoid with Diabetes | ডায়াবেটিস রুগীদের জন্য নিষিদ্ধ খাবার

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য যেসব খাবার নিষিদ্ধ

ডায়াবেটিস শব্দটির সাথে পরিচয় নেই এমন মানুষ বর্তমানে খুঁজে পাওয়া কঠিন। ডায়াবেটিস এর বাংলা নাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!