Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায়

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেকের কাছে অনেক সহজ একটি ব্যাপার হলেও অনেকের কাছে তা কঠিন থেকে কঠিনতর একটি কাজ। এটি মনের সাথে এক প্রকার যুদ্ধ যা সারাজীবন করতে হয়।

কিছু কাজ আছে যেগুলো মনের বিরুদ্ধে করা উচিৎ নয় আবার এমন কিছু কাজ আছে যা মন না চাইলেও করতে হয়। কারণ কোন প্রকার চিন্তা ভাবনা না করে মনের পক্ষের কাজগুলো প্রতিনিয়ত করলে একসময় তা মারাত্মক ক্ষতি নিয়ে আসে।

মনে করুন আপনার ডায়াবেটিস আছে। অনেকদিন ধরে ভাবছেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকারী খাবার খাবেন, ওজন কমাবেন ইত্যাদি।

কিন্তু সামনে মজাদার খাবার দেখলে আর লোভ সামলাতে পারছেন না অর্থাৎ আপনার মন চাচ্ছে মজাদার খাবারগুলো নিমিষেই খেয়ে ফেলতে।

মন চাচ্ছে বলেই আপনি খাচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত এমন করছেন। তাহলে দেখা যাবে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা স্বাস্থ্যেরই বারোটা বাজিয়ে ফেলবেন।

পড়াশুনা করতে মন চাচ্ছে না অথচ সামনে পরীক্ষা। মন চাচ্ছে ঘুরবো, খেলবো, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেব। চিন্তা করে দেখেন যদি মনের পক্ষে কাজ করেন তাহলে পড়াশুনা বা পরীক্ষার কি অবস্থাটাই হবে?

অনেকের কাছে মনে হতে পারে এগুলো তেমন কিছু না, মনের বাইরে গিয়ে করতেই হবে এমন কোন কথা নেই। আসলে এটি পুরোপুরি ভূল ধারণা।

জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে এসব ছোট খাট বিষয় মনে হলেও ধীরে ধীরে তা অনেক বড় ধরণের সমস্যার সৃষ্টি করে। নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ না করলে কি কি ক্ষতি বা সমস্যা হতে পারে ঠাণ্ডা মাথায় একটু চিন্তা করেন, তাহলেই খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

আমাদের মাঝে অনেকেই আছে ছোট ছোট বিষয় নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত চিন্তা করে থাকেন এমনকি নিজের মনের উপর কোন নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না। এটিও মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

যারা নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না তাদের নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় সম্পর্কে কিছুটা হলেও জেনে রাখা প্রয়োজন।

কয়েকটি সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করলেই নিজের মনকে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আসুন জেনে নেই, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায়।

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার সহজ উপায়, Easy ways to control of your mind

সুচীপত্র

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায়

বেশ কিছু পদ্ধতি বা উপায় এখানে আছে যা অবলম্বন করলে নিজের মনকে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। আসুন বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক, কিভাবে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?

১. আপনার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

পৃথিবী জুড়ে একটি বিখ্যাত প্রবাদ আছে “লক্ষ্যহীন জীবন পালবিহীন নৌকার মত”। এই জায়গায় এই প্রবাদ বাক্যটি নিয়ে আসার কারণ হচ্ছে, পালতোলা নৌকা যেমন সহজে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যেতে পারে, খুব সহজে পথহারা হয় না।

ঠিক তেমনি, একজন মানুষের লক্ষ্য যদি ঠিক করা না থাকে তাহলে পালবিহীন নৌকার মত এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে একসময় দিশেহারা হয়ে যাবে।

মানুষের জীবনে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা। ছোট বেলা থেকে ঠিক করে রাখা উচিৎ আপনি কি হতে চান, আপনি কি করতে চান, আপনার ভালো লাগার বিষয়গুলো কি ইত্যাদি।

এসব বিষয় নোট করে রাখুন। স্বপ্ন ছোট হোক কিংবা বড়, এই স্বপ্ন বা লক্ষ্যটিকে পূঁজি করে ধীরে ধীরে বাস্তব জগতে নিয়ে আসুন।

প্রাথমিক পর্যায়ে আপনি শুধু এতটুকু মাথায় রাখুন যে আপনার একটি লক্ষ্য আছে, সেই লক্ষ্যে আপনাকে পৌঁছাতে হবে। আপনার লক্ষ্যকে মাথায় রাখলে খুব সহজে আপনি আপনার লক্ষ্য থেকে পথচ্যুত হয়ে যাবেন না।

আপনার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

অনেকেই অনেক বড় পরিকল্পনা করে রাখে কিন্তু বাস্তবে তার রূপ দিতে পারে না। তখন দিশেহারা হয়ে পড়ে, মানসিকভাবে ভেংগে পড়ে। তাই অনেক বড় পরিকল্পনা না করে প্রথমিকভাবে আপনার লক্ষ্যকে শুধু মাথায় রাখুন, তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যান।

আপনার মাথায় যখন আপনার লক্ষ্যটির জন্য জায়গা তৈরি হয়ে গেলে তখন আপনাকে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করতে হবে। দ্বিতীয় ধাপের কাজ গুলো খুব কঠিন কিছু না।

আপনার লক্ষ্য পৌঁছাতে গেলে কি কি কাজ করতে হবে সেই কাজগুলোকে ভাগ করে ফেলুন। কোন মানুষই একেবারেই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না এবং এটা কখনো সম্ভবই না।

তাই বড় লক্ষ্যকে কয়েকভাবে ভাগ করে ছোট করে ফেলুন এবং একটি ছোট লক্ষ্য অর্জন করতে এগিয়ে চলুন। একটি ছোট লক্ষ্য অর্জন হয়ে গেলে আরও একটিকে নিয়ে কাজ শুরু করে দিন। এভাবেই একদিন সফলতার চরম শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

তাহলে বলা যেতেই পারে, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় হচ্ছে লক্ষ্য নির্ধারণ করা।

২. দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করুন

মানুষের জীবনে দুশ্চিন্তা থাকবেই, তবে মাত্রাতিরিক্ত দুশ্চিন্তা শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে পাশাপাশি নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায়ও হারিয়ে যায়।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার কারণে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায় না, শরীরে নানা ধরণের রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে। এসবকিছুর কারণে একসময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণের সবগুলো রাস্তা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

আপনি একটি বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন কিন্তু আপনি চাচ্ছেন না বিষয়টি নিয়ে ভাবতে, তবুও মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না। এ অবস্থা থেকে খুব সহজেই পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব যদি আপনি নিচের কয়েকটি কথা মেনে চলতে পারেন।

যে বিষয়টি আপনার দুশ্চিন্তার কারণ, সেই বিষয়টি আনুমানিক কি ফলাফল দিতে পারে তার একটি লিস্ট করে ফেলুন। যদি বেশিরভাগ ফল ভালো হয় তবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই।

আর যদি সম্ভাব্য ফলাফল খারাপ হয় তবে সেটা কিভাবে সামলানো যাবে, তা নিয়ে সামান্য ভাবুন এবং সামলানোর পথ বের করে ফেলুন। তাহলেই আর সে বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করুন

সারাদিনের কাজের রুটিন তৈরি করুন, সেখানে চিন্তা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখুন। এবং শুধুমাত্র ঐ সময়টিতেই চিন্তা করবেন অন্য কোন সময়ে চিন্তা করবেন না। যদি অন্য কোন সময়ে দুশ্চিন্তা এসে যায় তবে নিজেকে বলুন চিন্তা করার নির্দিষ্ট সময় আছে, সে সময়ে চিন্তা করব।

এভাবে প্র্যাকটিস করলে আশা করা দুশ্চিন্তা তুলনামূলক অনেক কমে আসবে। অন্তত দিনের অন্যান্য সময়ে দুশ্চিন্তা করার প্রবনতা কমে আসবে।

ঘুরতে বের হলে অনেক সময় দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি মেলে। পার্ক কিংবা নদীর ধারে হাটাহাটি করলে মন্দ হয় না। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারলেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি মিলবে অনেকটাই।

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে অবশ্যই দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করতে হবে, আর কিভাবে দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তা তো জানাই হল।

৩. অতীতকে বর্তমানে নিয়ে আসা বন্ধ করুন

আমাদের মাঝে অনেক লোক আছে যারা অতীতের ভুলকে বর্তমানে নিয়ে আসে এবং সেই ভুলকে প্রাধান্য দিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বিচার করে থাকে। এবং বলে থাকে অতীতের ঐ ভুলটার কারণে আমার এই অবস্থা ইত্যাদি ইত্যাদি।

এরকমটি করা মোটেও উচিৎ নয়। অতীতে মানুষের ভুল ভ্রান্তি থাকতেই পারে তবে তা ভবিষ্যতে বা বর্তমানে নিয়ে আসলে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।

অতীতকে অতীতের জায়গায় রাখার চেষ্টা করুন। নিজের ভবিষ্যতকে ভাগ্যের হাতে অনেকেই ছেড়ে দেয়, এটি মোটেও উচিৎ নয় কারণ ভাগ্য পরিবর্তনশীল।

কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায় দিয়ে নিজের ভাগ্যকে গড়ে তোলা সম্ভব। নিজের মনকে বলুন, আমি আমার ভাগ্য নিজের হাতে গড়ে তুলবো তাহলে দেখা যাবে, অতীতের কোন ভুল কাজ বর্তমানকে প্রভাবিত করতে পারছে না।

অতীতকে বর্তমানে নিয়ে আসা বন্ধ করুন

মানুষ অতীতের ভুলকে সামনে নিয়ে আসে ঠিকই কিন্তু সে ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে সেটাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতের ক্ষতি করে থাকে।

এমনটি না করে সে ভুল থেকে কিভাবে শিক্ষা নেয়া যায় সেটা খুঁজে বের করুন। এ ধরণের ভুল বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতে না হয় তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

প্রয়োজনে আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী কারও কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। নিজের লক্ষ্যকে ভাগ্যের হাতে তুলে না দিয়ে ভাগ্য গড়ার মহা মূল্যবান কাজটি নিজের হাতে তুলে নিন।

৪. নিজের সক্ষমতার উপর বিশ্বাস রাখুন

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কতটুকু সেটার উপর পজিটিভ মনভাব রাখুন। বিশ্বাস রাখুন আপনার মন আপনার কথা মেনে চলে। মনে রাখবেন ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা নিজেকে সামলানো বা নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার রাস্তা তৈরি করে দেয়।

মনে করুন আপনাকে একটি কাজ করতে হবে এবং কাজটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কাজটি না করা হলে ভবিষ্যতে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু কাজটি করতে আপনার মন চাচ্ছে না।

এক্ষেত্রে আপনি আপনার মনকে বোঝান যে, এই কাজটি করার ক্ষমতা আপনার আছে এবং আপনি পারবেন কিংবা আপনার করা উচিৎ।

নিজের সক্ষমতার উপর বিশ্বাস রাখুন

তবুও যদি নিজের মনকে বোঝাতে না পারেন তবে চোখ বন্ধ করে নিজের মনকে বলতে থাকুন আমি তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তোমাকে আমার কথা শুনতেই হবে।

এর পাশাপাশি মনে করুন অতীতের ভালো কাজ গুলোর কথা যেগুলোতে আপনি সফল হয়েছিলেন। কিছুক্ষনপর দেখবেন কাজটির প্রতি এক্সট্রা একটা অনুভূতি কাজ করছে।

৫. ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নেগেটিভ চিন্তা করা বন্ধ করুন

আমাদের দেশে এমন মানুষের অভাব নেই যারা ছোট বিষয় কিংবা ব্যর্থতাকে অনেক বড় করে তোলে, যাকে বলা হয় তিলকে তাল বানানো।

একজন কলেজ পড়ুয়া ছেলে একটি পরীক্ষায় ফেল করল। সেই থেকে সে চিন্তায় পড়ে গেল যে, তার দ্বারা ভালো কিছুই হবে না, তার জীবন এখানেই শেষ হয়ে গেছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এ ধরণের ছোট একটি বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে ভেংগে পড়ে এবং ধীরে ধীরে তা ডিপ্রেশনে রূপ নেয়। এমনটি করা কখনোই মঙ্গলজনক হতে পারে না।

কারও এমন অবস্থার সৃষ্টি হলে বেশী বেশী পজিটিভ চিন্তা করুন, আপনার লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে আসুন এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন, একটি বিষয়ে ফেল আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে কতটুকু বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে?

এই ফেল করার কারণে কি আমার লক্ষ্যে পৌঁছানোর সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে? আপনার আশে পাশে অনেক মানুষ আছে যারা অনেক ব্যর্থতার পরেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এমন দু একজনকে খুঁজে বের করুন এবং তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিন।

৬. সন্দেহ কিংবা অনুমান করা বন্ধ করুন

অতিরিক্ত সন্দেহ করা কিংবা না ভেবে আগে থেকেই নেগেটিভ অনুমান করা দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ। আমাদের মাঝে অনেক মানুষ আছে যারা যে কোন বিষয়ে আগে পিছে ভালো মন্দ না ভেবেই অহেতুক সন্দেহ পোষণ করেন বা বিষয়টি নিয়ে নেগেটিভ ধারণা করে থাকেন।

মনে করুন আপনার কাছের একজন লোক অন্য একটি লোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু আপনি তাকে বললেন ঐ লোকের সাথে দেখা করে কি লাভ, উনি তো আমাকে পছন্দ করে না।

আপনার কাছের লোকটিকে সরাসরি সিদ্ধন্ত জানিয়ে দিলেন এবং এমন সিদ্ধান্তের একটি কারণও শুনিয়ে দিলেন। কিন্তু একবারের জন্য চিন্তা করলেন না যে, লোকটি আসলেই কি আপনাকে পছন্দ করে না?

একবার ভেবে দেখেননি যে, লোকটি আপনাকে কেন পছন্দ করে না? কিংবা নিজেকে প্রশ্ন করেননি কখনোই। এমন ধারণা বা নেগেটিভ মনোভাব বা সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্বে অবশ্যই নিজেকে উপরের প্রশ্নগুলো করা প্রয়োজন।

এর পাশাপাশি আপনার এমন ধারণা করার কারণ এবং ঐ লোকটি কেন আপনাকে পছন্দ করেন না তার প্রমাণ আপনার কাছে আছে কিনা?

এ ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করলে অহেতুক নেগেটিভ ধারণা বা সন্দেহ করা থেকে বিরত থাকতে পারবেন। আর এমনটি করলেই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

৭. নিজের উপর আস্থা রাখুন

ধরুন, আপনার কিছু খারাপ অভ্যাস আছে। আপনি চাচ্ছেন যে খারাপ কাজ বা অভ্যাসগুলো বাদ দিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করবেন।

কিন্তু আপনি নিজের উপরে আস্থা বা বিশ্বাস রাখতে পারছেন না। এমনটি মনে হলে অর্থাৎ নিজের উপর বিশ্বাস বা আস্থা না থাকলে পৃথিবীর কেউ আপনাকে পরিবর্তন করতে পারবে না।

কারণ আত্মবিশ্বাস না থাকার কারণে আপনি নিজেকে পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেবেন না, আর পর্যাপ্ত সময় না দেয়ার কারণে আপনার পরিবর্তনও সম্ভব নয়।

আপনি যদি সত্যি নিজেকে পরিবর্তন করতে চান তবে সবার প্রথমে নিজের উপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে এবং মনে রাখতে হবে পরিবর্তনের মাঝেই আপনার কল্যান রয়েছে। ভাবুন যে আপনি চাইলেই নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক জানিয়েছেন, মানুষ দুই ধরণের মাইন্ডসেটের অধিকারী। প্রথমটি হচ্ছে গ্রোথ মাইন্ডসেট, এ ধরণের মাইন্ডসেট যাদের রয়েছে তারা চাইলেই নিজেকে পরিবর্তন করতে পারে কারণ, এ ধরণের মানুষ খুব সহজেই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

আরেকটি হচ্ছে ফিক্সড মাইন্ডসেট, এ ধরণের মানুষ নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, অর্থাৎ নিজেকে পরিবর্তন করার কোন ইচ্ছে তাদের থাকে না।

তাদের মনে ফিক্সড হয়ে গেছে যে, তাদের দ্বারা ভালো কিছু করা কখনো সম্ভব নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এ ধরণের লোক তাদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

বেশীরভাগ মানুষ ডিপ্রেশনে ভুগে থাকে। এর থেকে বাঁচার জন্য নিজের উপর আস্থা বা বিশ্বাসের প্রতি জোর দেন গবেষক দল।

৮. হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করুন

আমরা চাইলেও অনেক সময় হাসিখুশি থাকতে পারি না। মানুষের মন কোন সময় খারাপ থাকবে আবার কোন সময় ভালো থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু অধিকাংশ সময় মন খারাপ করে থাকলে কাজের প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়। এরূপ চলতে থাকলে শরীরে ডিপ্রেশনের মত রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে, একসময় নিজের মনের উপর নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।

এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার বৈজ্ঞানিক উপায় হচ্ছে হাসিখুশি থাকা বা হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করা।

আপনার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মানুষের যখন হাসি পায় তখন মানুষ হাসে, এবং তখনই মানুষ খুশি থাকে। তবে বিজ্ঞানীরা বলেছেন অন্য কথা, হাসি না পেলেও কেউ যদি হাসার চেষ্টা করে তবুও তাদের মধ্যে এক ধরণের ভাল লাগার বা খুশি থাকার অনুভূতি তৈরি হয়।

পাশাপাশি নেগেটিভ ভাবনা গুলোকে কমিয়ে দেয়। তাই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হাসি না আসলেও হাসার চেষ্টা করতে হবে এভাবে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

৯. বদ অভ্যাসের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলুন

মনে করুন আপনি ধূমপানে আসক্ত কিংবা অন্য কোন খারাপ অভ্যাস আপনার রয়েছে। আপনি অনেকদিন ধরে ধূমপান ছাড়ার সহজ উপায় খুঁজছেন। কয়েকদিন অফ রাখার পর আবার শুরু করে দিচ্ছেন ধূমপান। কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না।

এ ক্ষেত্রে আপনাকে ধূমপানের প্রতি নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি গড়তে হবে। নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি এমন হওয়া উচিৎ, যে সিগারেট বিষাক্ত তামাক থেকে তৈরি, এর মাঝে নিকোটিন নামক বিষাক্ত কেমিক্যাল থাকে।

যা মানুষের শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর। ধূমপানের কারণে ফুসফুসে ক্যান্সার হয়। এমন বিরূপ মনোভাব পোষণ করার পাশাপাশি তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করুন।

আপনার জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

অ্যামেরিকার একদল গবেষক জানিয়েছেন, কোন খারাপ অভ্যাসের প্রতি নেগেটিভ বা নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা ঐ অভ্যাসের প্রতি অসক্তি কমিয়ে দেয়।

তাই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে, যা থেকে নিজেকে পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন তার নেতিবাচক বিষয়গুলো সম্পর্কে চিন্তা করুন, ভাবুন।

খারাপ দিকগুলোকে বারবার নিজের মনকে জানিয়ে দিন, তাতেই ঐ বিষয়ের প্রতি আপনার অনীহা চলে আসবে। খারাপ জিনিসের প্রতি অনীহা বা আগ্রহ কমে গেলেই খুব সহজেই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

১০. কপালের দোষ দেয়া বন্ধ করুন

আমাদের মাঝে অনেক মানুষ আছে যারা কোন কিছু হলেই নিজের কপালের দোষ দিয়ে থাকে। এমন করলে সাধারণত দুশ্চিন্তা করার পরিসর বৃদ্ধি পায়।

যেমন ধরুন, আপনার একমাত্র ছেলে পরীক্ষায় ফেল করেছে বা অনেক কম নম্বর পেয়েছে। এটি শোনার পর আপনি বললেন, সব আমার কপালের দোষ, আমার কপাল খারাপ তাই এমন হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আসলেই কি তাই? চিন্তা করে দেখেছেন একবারও যে আপনার ছেলের ফেল করার সাথে আপনার কপালের কোন সংযোগ আছে কি না? ঠাণ্ডা মাথায় একটু চিন্তা করলেই আপনি আপনার উত্তর পেয়ে যাবেন।

এবং বুঝতে পারবেন, আপনার কপালের সাথে ছেলের ফেল করা এ দুটির মধ্যে বিন্দু পরিমাণও কোন সম্পর্ক নেই।

এই ধরণের কাজ করা বা সব দোষকে ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে দুটি উপায় প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রথমটি হলো, সবকিছুকে বিবেক দিয়ে কিংবা যুক্তি দিয়ে চিন্তা করুন এবং আবেগকে আবেগের জায়গায় রেখে দিন, চিন্তা করার ক্ষেত্রে আবেগকে প্রশ্রয় দিয়া বন্ধ করে দিন।

বিবেক বা যুক্তি দিয়ে চিন্তা করলে অন্য কারও ব্যর্থতায় আপনার ভূমিকা বা সম্পৃক্ততা কতটুকু তা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

আর যেদিন থেকে অন্যের দোষ ব্যক্তিগতভাবে নেয়া বন্ধ করতে পারবেন, সেদিন থেকেই আপনি আপনার মনকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন খুব সহজেই।

১১. নিজেকে চাপ মুক্ত রাখুন

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে নিজেকে চাপ মুক্ত রাখা। নিজেকে চাপ মুক্ত রাখলে শুধু নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়, সাথে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায়। মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক স্বাস্থ্য এ দুটি একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে সংজুক্ত।

যদি আপনি মানসিকভাবে চাপে থাকেন তবে এর প্রভাব শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর পড়ে। আবার যদি শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর চাপ বেশী হয়ে যায় তবে তা মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

আবার অতিরিক্ত মাত্রায় শারীরিক কিংবা মানসিক চাপে থাকলে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তাই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রথম কাজ হচ্ছে নিজেকে চাপমুক্ত রাখা। দুটি উপায়ে নিজেকে চাপ মুক্ত রাখা যায়।

প্রথমটি হচ্ছে, নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা, এক্ষেত্রে মেডিটেশন অনেক বেশি কার্যকরী হতে পারে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে নিয়মিত ১৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করা এবং পরিবার আত্মীয় স্বজনদের সাথে সময় কাটানো। এ কাজ গুলো করলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায় এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা যায়।

১২. অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করুন

আশে পাশে অনেক মানুষ আছে যারা তিন বেলা ভালো খাবার খেতে পারে না। এদেরকে সাহায্য করুন, এদের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন, এদের জন্য অর্থ ব্যয় করুন।

অপরকে সাহায্য সহযোগিতা করুন

এই কাজগুলো করলে সামাজিক বন্ধন মজবুত হয় এবং মন ভালো থাকার পাশাপাশি পজিটিভ বা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই ইতিবাচক মনোভাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

১৩. ক্ষতিকর বিষয় নিজের জন্য কঠিন করুন

কোন মানুষ তার একটি খারাপ অভ্যাস বা কাজ বাদ দিতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না, কারণ খারাপ অভ্যাস বা কাজটি হাতের নাগালে থাকলে তা করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়।

যদি এমন হয় যে, খারাপ অভ্যাস বা কাজটি তার হাতের নাগালে নেই, কাজটি করতে তার জন্য একটু কষ্টকর হতে পারে।

যেমন ধরা যাক, আপনি মোবাইলে গেইম খেলার প্রতি আসক্ত হয়ে পরেছেন। আপনি চাচ্ছেন সেটি বাদ দিয়ে পড়াশুনায় মনোযোগ দিতে।

এমতাবস্থায় মোবাইলটি যদি আপনার হাতের কাছে থাকে তবে পড়তে বসেও গেইম খেলতে ইচ্ছে করবে। তাই মোবাইলটি এমন জায়গায় রেখে আসুন যেন তা সহজে আপনার হাতে চলে না আসে।

এভাবে ধীরে ধীরে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

১৪. নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে নিজেকে শাস্তি দিন

আত্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি মজার উপায় হচ্ছে নিজেকে শাস্তি দেয়া। আপনি কোন কাজে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উদ্যোগ নিলেন, কিন্তু আপনার নিয়ন্ত্রণহীণ মনের কারণে তা করতে পারলেন না, এর জন্য নিজেকে শাস্তি দিন।

এই শাস্তি কার্যকর করার জন্য মা বাবা ভাই বোন স্ত্রীর সাহায্য নিতে পারেন। এখন কথা হচ্ছে নিজেকে কি শাস্তি দেবেন? ধরুন আপনি রুই মাছের মাথা খেতে অনেক পছন্দ করেন।

আপনার পরিবারের কাউকে বলে রাখলেন যে, যদি আপনি ঐ কাজটি না করতে পারেন তবে আমাকে যেন রুই মাছের মাথা দেয়া না হয়।

এভাবে ধীরে ধীরে আপনার যেকোনো কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি জন্ম নেবে।

১৫. নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে নিজেকে পুরস্কৃত করুন

কোন কাজ করতে ইচ্ছে হচ্ছে না বা মনে চাচ্ছে না এমন অবস্থায় আপনি জোর করে কাজটি করলেন, এর অর্থ হচ্ছে মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আপনাকে কাজটি করতে হল।

এটিকেই বলা যেতে পারে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। এর জন্য আপনি নিজেকে পুরস্কৃত করুন।

উদাহরণ স্বরূপ, আপনার পড়তে ইচ্ছে করছে না কিন্তু জোর করে ২ ঘণ্টা পড়লেন এর জন্য নিজেকে একটি চকলেট উপহার দিতে পারেন।

এই ধরণের কাজ হাস্যকর হলেও নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকরী। তবে মাথায় রাখতে হবে পুরস্কার বা উপহারটি যেন খারাপ কিছু না হয়।

১৬. পর্যাপ্ত ঘুমানো

একজন সুস্থ মানুষকে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুম শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে অসুস্থ করে তোলে। শরীর ও মনকে সুস্থ বা তরতাজা রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই।

পর্যাপ্ত ঘুমানো

রাতে ভালো ঘুম না হলে সারাদিন অনেক কষ্টে পার করতে হয়। কোন কাজে মনোযোগ বসে না, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।

এই অবস্থায় নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক কষ্টের হয়ে পরে। তাই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন।

১৭. নামাজ পড়া

মুসলিমদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং কায়েম করা ফরজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের শারীরিক উপকারিতা রয়েছে।

এছাড়া সময়মত নামাজ আদায় করলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকা যায়। নামাজ আদায় করলে মনে প্রশান্তি আসে যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে বাধা দেয়।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

“নিশ্চয়ই নামাজ খারাপ ও অশ্লীল কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে।”

পৃথিবীর কোন ধর্মই খারাপ কাজকে উৎসাহিত করে না বরং ভালো কাজকে উৎসাহিত করে। তাই ধর্ম পালনে মনোযোগী হওয়া দরকার।

পর্যাপ্ত ঘুমানো

নিয়মিত ধর্মচর্চা করলে নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যায়। কারণ মন খারাপ কিছু করতে চাইলেও ধর্ম তা করতে দেবে না।

পরিশেষে একটি কথাই বলা যায়, নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। তারপর উপরোক্ত পয়েন্টগুলোকে কাজে লাগালেই খুব সহজেই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

 

আরও পড়ুন,

 

*লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো*

Check Also

There are 5 ways to stop hair loss

৫ টি উপায়ে বন্ধ হয়ে যাবে চুল পড়া

মাত্রারিক্ত মাথার চুল উঠে যাওয়া বর্তমানে মেয়েদের বেশ ভাবিয়ে তুলছে। স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষের প্রতিদিন কিছু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!