Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » ইসলামের আলো » যে কাজগুলো করলে দোয়া কবুল হবেই (দেয়া কবুলের শর্তাবলী/মুনাজাত কবুলের শর্তাবলী)

যে কাজগুলো করলে দোয়া কবুল হবেই (দেয়া কবুলের শর্তাবলী/মুনাজাত কবুলের শর্তাবলী)

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন যে, আমি এত বেশি বেশি দোয়া করি তবুও আমার দোয়া কবুল হয় না। তাদের জন্য সুসংবাদ এই যে, দোয়া কবুলের শর্ত রয়েছে, অর্থাৎ দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত আছে।

সেই শর্তগুলো পূরণ না হলে অধিকাংশ আলেমের মতে দোয়া কবুল হয় না। তাহলে বলা যেতেই পারে, দোয়া কবুলের শর্তাবলী সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানের জ্ঞান রাখা আবশ্যক!

হ্যাঁ ঠিক তাই, দোয়া কবুল হওয়ার শর্তাবলী অর্থাৎ দোয়া কবুলের শর্ত গুলো সম্পর্কে আজ আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। ইনশাআল্লাহ।

দোয়া কবুলের শর্ত / মুনাজাত কবুলের শর্তাবলী

দোয়া কবুল হওয়ার জন্য বেশ কিছু মৌলিক শর্ত রয়েছে। এই দোয়া কবুল হওয়ার শর্তাবলী পালন করা না হলে সেই দোয়া বাতিল হয়ে যায়।

আসুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেই, দোয়া কবুলের শর্তাবলি সম্পর্কে।

১. হালাল রিজিক গ্রহণ করা

দোয়া কবুলের শর্তগুলোর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান শর্ত হচ্ছে হালাল রিজিক গ্রহণ করা। আপনার উপার্জন যদি হালাল পথে না হয়ে থাকে তবে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আপনার দোয়া কবুল হবে না।

এ ব্যাপারে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন,

“মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া কিছুই কবুল করেন না” (সহিহ মুসলিমঃ ১০১৫)

এ ব্যাপারে আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) আরও বলেছেন,

“ওই শরীর কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না- যা হারাম খেয়ে বড় হয়েছে” (বায়হাকি)

উপরের হাদিস দুটি দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, দোয়া কবুল হওয়ার শর্তাবলীর মধ্যে প্রথম এবং প্রধান শর্ত হচ্ছে হালাল রিজিক গ্রহণ করা অর্থাৎ হালাল পথে উপার্জন করা।

জেনে নিন, রিজিক বৃদ্ধির আমল

২. শুধুমাত্র আল্লাহর কাছেই দোয়া করা

দোয়া কবুলের শর্ত গুলোর মধ্যে অন্যতম আরও একটি শর্ত হচ্ছে, শুধুমাত্র এবং কেবলমাত্র মহান আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করা।

আমাদের মাঝে অনেক মানুষ আছে যারা আল্লাহর কাছেও দোয়া করে এবং মাজারে কিংবা পীরবাবার কাছেও দোয়া করে। এমনটি করলে মহান আল্লাহ তায়ালা আপনার দোয়া কবুল করবেন না।

তবে মাজারে যেতে পারবেন শুধুমাত্র জিয়ারত করার উদ্দেশ্যে। কেননা, কবর জিয়ারত করা সুন্নত, এতে মানুষের মনে মরনের কথা স্মরণ হয় এবং ঈমান বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

কোন কিছু চাইতে হলে শুধুমাত্র মহান আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের রাসূল (সাঃ) বলেছেন,

“তোমার কিছু চাওয়ার প্রয়োজন হলে কেবলমাত্র মহান আল্লাহর কাছেই চাইবে” (তিরমিজিঃ ২৫১৬)

উপরের হাদিস থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, দোয়া কবুলের শর্তাবলীর মধ্যে অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে, দোয়া করতে হবে একমাত্র আল্লাহর কাছেই। অন্যথায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হবে না।

জেনে নিন, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়

৩. পূর্ণ আস্থা নিয়ে দোয়া করা

দোয়া কবুল হওয়ার শর্তাবলীর মধ্যে আরও একটি প্রধান শর্ত হচ্ছে মহান আল্লাহর কাছে পূর্ণ আস্থা নিয়ে দোয়া করা। আল্লাহর উপর যদি পূর্ণ আস্থা না থাকে তবে দোয়া করার তো কোন মানেই হয় না।

মনের ভিতরে সংশয় রেখে মহান আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইলে আল্লাহ তায়ালা তা কখনোই পূরণ করবেন না। কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা আপনার অন্তরের খবর খুব ভালোভাবেই জানেন।

এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) বলেছেন,

“দোয়ার সময় এমনভাবে চাইবেন, যেন মনে হয়- আপনি নিশ্চিত যে আপনার দোয়াটি অবশ্যই কবুল হবে”

উপরের হাদিস থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মহান আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইতে হলে একনিষ্ঠভাবে, পূর্ণ আস্থার সাথে চাইতে হবে, আর এটাই দোয়া কবুলের শর্ত।

জেনে নিন, খালি পেটে পানি পান করার উপকারিতা

৪. দোয়ায় রাসূল (সাঃ) এর উপর দোয়া পড়া

মুনাজাত কবুলের শর্তাবলীর মধ্যে অন্যতম একটি শর্ত হচ্ছে আল্লহর রাসূল (সাঃ) এর উপর দরুদ পড়া। কোন মুনাজাতে আল্লাহর রাসুলের উপর দরূদ পড়া না হলে সেই দোয়া আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছায় না।

এ ব্যাপারে একটি হাদিসে উল্লেখ আছে,

“আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) এর উপর দরূদ না পড়লে দোয়া আকাশ এবং জমিনের মাঝখানে ঝুলে থাকে। এই দোয়া আল্লাহর আরশ পর্জন্ত পৌঁছায় না।” (আস-সাওয়াত, তাবরানিঃ ১/২২০)

উপরোক্ত হাদিস থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে মুনাজাত কবুলের শর্ত হচ্ছে যে কোন দোয়ার মাঝে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর উপর দরূদ পড়া।

জেনে নিন, জুমার দিনের আমল

৫. দোয়ার সাথে সাথে দাওয়াও থাকা

দোয়া বা মুনাজাত কবুল হওয়ার শর্তাবলীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে দোয়ার সাথে সাথে দাওয়া থাকা। অর্থাৎ, যে কাজের জন্য বা যা হাসিলের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আমরা দোয়া করবো সাথে সাথে সেই কাজের জন্য চেষ্টাও চালিয়ে যাব। 

শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করে ঘরে বসে থাকলেই কোন প্রকার ফলাফল পাওয়া যাবে না। আর এটাই জেনে রাখা জরুরী যে, রাসুল (সাঃ) মহান আল্লাহর কাছে দোয়াও করেছেন আবার সাথে চেষ্টাও করেছেন।

আপনি মহান আল্লাহর কাছে একটা জিনিস চেয়ে দোয়া করলেন এবং ঘরের মধ্যে বসে থাকলেন, এই ভেবে যে আমি তো আল্লাহর কাছে দোয়া করেছি, আল্লাহ আমাকে দেবেন।

এমন কাজ করা যাবে না, কারণ মহান আল্লাহ তায়ালা আপনাকে আসমান থেকে সরাসরি আপনার চাওয়া পূরণ করবেন না। আপনার চাওয়ার সাথে আপনার চেষ্টাও থাকতে হবে।

আমাদের মাঝে অনেকেই আশাহত হয়ে থাকেন, আমি এতো দোয়া করি আল্লাহর কাছে আমার কোন দোয়া কবুল হয় না। আসলে আমরা দোয়া কবুলের শর্ত অর্থাৎ মুনাজাত কবুলের শর্ত মেনে দোয়া করি না।

মহান আল্লাহর কাছে চাইতে হলে চাওয়ার মত চাইতে হবে। একজন ভিক্ষুক যেমন একজন মানুষের কাছে ভিক্ষা চেয়ে থাকে। দোয়া কবুলের শর্তগুলো আশা করি আপনাদের অনেক উপকারে আসবে এটাই কামনা।

আর হ্যাঁ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে ইসলামের আলোকে জীবন পরিচালিত করার তাইফিক দান করুন। আমিন।

 

আরও পড়ুনঃ

* লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইলো*

Check Also

10 Main Task Of Iblis Shaitan

ইবলিশ শয়তানের ১০ টি প্রধান কাজ

শয়তান শব্দটি একবচন, এবং বহুবচন হচ্ছে শায়াতিন। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে ৬৩ বার শয়তান শব্দটি এসেছে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!