Download Free FREE High-quality Joomla! Designs • Premium Joomla 3 Templates BIGtheme.net
Home » বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি » ৮ টি সহজ উপায়ে নিরাপদ রাখুন আপনার কম্পিউটার

৮ টি সহজ উপায়ে নিরাপদ রাখুন আপনার কম্পিউটার

দুনিয়ার সকল কম্পিউটার ব্যবহারকারীর একটি প্রধান দুশ্চিন্তার নাম হল কম্পিউটারের ভাইরাস। এছাড়াও হ্যাকারের কবলে পড়ার আশংকা তো আছেই।

একবার হ্যাকার যদি কোন কম্পিউটার হ্যাক করে তবে সেই কম্পিউটারের সকল তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়।

একটি কোম্পানির কম্পিউটারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন তথ্য থাকতে পারে, সেগুলো হ্যাকাররা তাদের হাতে নিয়ে অনেক বড় অংকের টাকা দাবি করে।

কোম্পানি যদি টাকা না দেয় তবে তথ্যগুলো প্রকাশ করে দেয় জনসম্মুখে। অথবা তথ্যগুলকে নষ্ট করে দেয় যা একটি কোম্পানির জন্য অনেক বড় ক্ষতি।

পার্সোনাল কম্পিউটার কিংবা কোম্পানির কম্পিউটার নিরাপদ রাখার চিন্তায় থাকে অনেকেই, কিভাবে তাদের কম্পিউটার নিরাপদ রাখা যায়?

কম্পিউটার নিরাপদ রাখার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায় রয়েছে যা আপনি প্রয়োগ করলেই আপনার কম্পিউটারও থাকবে ১০০% নিরাপদ।

আসুন জেনে নেই কম্পিউটার নিরাপদ রাখার সহজ কিছু উপায়।

8 easy ways to protect your Computer

১. WiFi নেটওয়ার্ক অদৃশ্য রাখা

আপনি জানেন কি! বর্তমানে অতি সহজেই আপনার WiFi নেটওয়ার্ক স্ক্যানারের মাধ্যমে খুঁজে বের করা যায়? হ্যাঁ তথ্যটি সঠিক।

আমরা অনেকেই  WiFi নেটওয়ার্কে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখি, কিন্তু হ্যাকারদের কাছে এই পাসওয়ার্ড হ্যাক করা কোন ব্যপারই না। তাহলে এখন উপায় কি?

উপায় একটা আছে আর তা হল, আপনার WiFi নেটওয়ার্কটি অদৃশ্য করে রাখুন। এর ফলে আপনার নেটওয়ার্কটি পুরোপুরি নিরাপদ থাকবে।

মনে রাখবেন, আপনার নেটওয়ার্ক নিরাপদ মানেই আপনার কম্পিউটার নিরাপদ।

২. অনিরাপদ ওয়েবসাইটে প্রবেশ না করা

হেডলাইন দেখে সত্যি কপালে ভাঁজ পড়ে যাওয়ার কথা। প্রতিদিন হাজার হাজার ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে। সবগুলো ওয়েবসাইট যে নিরাপদ বিষয়টা এমন নয়।

এমন কিছু ওয়েবসাইট আছে যেগুলোতে প্রবেশ করার সাথে সাথে আপনার কম্পিউটার হ্যাক হয়ে যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে নিরাপদ ওয়েবসাইট চেনার উপায় কি?

নিচের উদাহরণটি লক্ষ্য করলে খুব সহজেই আপনি নিরাপদ এবং অনিরাপদ ওয়েবসাইট চিনতে পারবেন।

নিরাপদ ওয়েবসাইটঃ https://example.com/

অনিরাপদ ওয়েবসাইটঃ http://example.com/

এই দুটি ওয়েব অ্যাড্রেস এর মধ্যে পার্থক্য হল- নিরাপদ ওয়েবসাইটটির http এর সাথে s যুক্ত করা আছে এবং অনিরাপদ ওয়েবসাইটটির http এর সাথে s যোগ করা নেই।

এই s দ্বারা বুঝানো হয় SSL Certificate অর্থাৎ Secure Sockets Layer Certificate.

জেনে নিন, ঘরে বসে আয় করার সহজ উপায়

৩. অটোমেটিক উইন্ডোজ আপডেট চালু রাখা

আমরা অনেকেই অটোমেটিক উইন্ডোজ আপডেট বন্ধ করে রাখি। বিশেষ করে যারা মডেম এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে।

কিন্তু আপনি জানেন কি! মাইক্রোসফট কোম্পানি উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।

যদি আপনার অটোমেটিক আপডেট চালু না রাখেন তবে নিরাপত্তার নতুন ফিচারটি আপনি পাবেন না অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি কোন কাজ করতে পারবে না।

এই অপশনটি চালু করার জন্য আপনাকে প্রথমে কম্পিউটারের কন্ট্রোল প্যানেলে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে উইন্ডোজ আপডেট একটি অপশন আছে সেখান থকে অটোমেটিক উইন্ডোজ আপডেট অপশনটি চালু করতে হবে।

৪. অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা

বর্তমানে কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখতে প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় অ্যান্টিভাইরাসের ব্যবহারকে। আপনার কম্পিউটারে যদি অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করা থাকে তবে ধরে নেবেন আপনার কম্পিউটারটি প্রায় পুরোপুরি নিরাপদে রয়েছে।

অ্যান্টিভাইরাস অনেক ধরণের হয়ে থাকে। বর্তমানে অনলাইনে অনেক ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস রয়েছে, এগুলো ব্যবহারে তেমন ভালো ফল পাওয়া যায় না।

ভালো মানের অ্যান্টিভাইরাস এর সিডি বা ডিভিডি বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলো ব্যবহার করলে অনেক ভালো ফল পাবেন।

উন্নতমানের অ্যান্টিভাইরাস যদি আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করা থাকে তবে সে আপনার কম্পিউটার থেকে খুঁজে খুঁজে ভাইরাস বের করবে এবং আপনাকে নোটিফিকেশন দেবে এবং আপনি খুব সহজে সেগুলোকে ডিলিট করে দিতে পারবেন।

মনে রাখবেন উন্নতমানের প্রোটেকশন পেতে হলে আপনাকে উন্নতমানের অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে। অ্যান্টিভাইরাস ইন্সটল করার পর অবশ্যই অটোমেটিক আপডেট অপশনটি চালু রাখবেন।

জেনে নিন, ব্লগিং সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য

৫. পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সতর্কতা

বিভিন্ন কাজের জন্য আমরা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট করে থাকি। এতে পাসওয়ার্ড এর ব্যবহার করতে হয়। আমরা অনেকেই খুব সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে থাকি কারণ সহজ পাসওয়ার্ড মনে রাখা সহজ।

কিন্তু এতে ঝুঁকি কিছুটা থেকেই যায়। এই ঝুঁকি এড়াতে একটু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিৎ। আবার অনেকেই একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহার করে থাকে। এতে করে হ্যাকাররা খুব সহজে অন্যান্য অ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক করতে পারবে।

তাই এই ঝুঁকি এড়াতে ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিৎ। পাসওয়ার্ড মনে রাখতে না পারলে আপনার পার্সোনাল ডায়েরীতে নোট করে রাখুন। এটাই সবথেকে উত্তম চর্চা।

৬. ফায়ারওয়াল ইন্সটল করা

বর্তমানে আমরা যেসকল অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে থাকি সেগুলোতে ফায়ারওয়াল দেয়াই থাকে। ফলে আমাদের নতুন করে ইন্সটল দেয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

ফায়ারওয়ালের প্রধান কাজ হচ্ছে আপনার কম্পিউটারে যদি কেউ অনুপ্রবেশ করে তবে এটি আপনাকে জানিয়ে দেবে। অনেকেই এই অপশনটি বন্ধ করে রাখে কিন্তু এটি করা মোটেও উচিৎ নয়।

আপনার ফায়ারওয়াল বন্ধ করা আছে কি না এখনি দেখে নিন। যদি বন্ধ করা থাকে তবে অন করে রাখুন। এতে করে আপনার কম্পিউটারের সিকিউরিটি বৃদ্ধি পাবে।

জেনে রাখুন, SEO কী, কেন এবং কাদের প্রয়োজন?

৭. জাভা ব্যবহারে সতর্কতা

আপনি যদি জাভা ব্যবহার করে থাকেন তবে অবশ্যই আপডেট ভার্সন ব্যবহার করুন। কারণ পুরনো ভার্সনগুলোর সিকিউরিটি অনেক দুর্বল।

যদি পারেন তবে আপডেট করে নিন আর যদি না পারেন তবে পুরনো জাভা ভার্সন ব্যবহার থেকে দূরে থাকুন।

৮. ইমেইল ব্যবহারে সতর্কতা

ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় পপ আপ পেইজ, কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পেইজ সামনে চলে আসে। এরূপ হলে সাথে সাথে তা কেটে দিন।

এবং যে ওয়েবসাইট ব্যবহারের ফলে পপ আপ পেইজটি চলে এসেছে সেই ওয়েবসাইট প্রবেশ থেকে বিরত থাকুন। কেননা ঐ সমস্ত পেইজগুলোতে থাকতে পারে ম্যালওয়্যার যা অনেক শক্তিশালী একটি ভাইরাস।

এই ভাইরাসটি এতটাই শক্তিশালী যে এটি আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করার সাথে সাথে আপনার সমস্ত ফাইল নষ্ট করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।

আমরা প্রয়োজনে অনেকেই ইমেইল ব্যবহার করে থাকি। এই ইমেইল ব্যবহারেও সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা উচিৎ। ইনবক্সে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মেইল আসে কিংবা কোন মেইল এর সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত অ্যাটাচমেন্ট থাকে।

এই অ্যাটাচমেন্ট ফাইল বা লিংকে থাকতে পারে ম্যালওয়্যার এর মতো শক্তিশালী ভাইরাস। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ফাইল ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।

উপরের ৮ টি উপায়ে খুব সহজে আপনি আপনার কম্পিউটারকে নিরাপদ রাখতে পারেন। আপনার কম্পিউটার ব্যবহার হোক নিরাপদ এটাই কামনা।

বন্ধুরা আজ এই পর্যন্ত আগামীতে দেখা হবে নতুন কোন টপিকস নিয়ে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এবং আমার লেখাটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন । আল্লাহ হাফেজ।

 

আরও পড়ুন,

 

*লেখাটি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন*

Check Also

What is Google Docs and How to Use Google Docs?

গুগল ডকস কি? Google Docs এর ব্যবহার

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এর নাম শুনিনি এমন মানুষ বর্তমানে খুব কমই আছে। এটি একটি ওয়ার্ড প্রসেসিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *